নবী করীম (ﷺ) এর পবিত্র ও নূরানী চক্ষুদ্বয় অত্যন্ত সুন্দর ও খুবই আকর্ষণীয় ছিল।
◼ হযরত জাবের ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, ২০
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ، ضليع الفم ، اشكل العينين -
নবী করীম (ﷺ) বড় মুখ, বড় চোখ পায়ের গােড়ালী কোমল ও সুশ্রী ছিল।
◼ অপর এক বর্ণনায় হযরত জাবের ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, ২১
عن جابر بن سمرة ، عن رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه وسلم قال : كنت اذا نظرت اليه قلت : اكحل العينين ، و ليس باكحل ، وكان
في ساقی رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه وسلم حموشة و كان لايضحك الا تبسما-
আপনি যখন তাঁর (ﷺ) এর প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন, দেখতে পাবেন তাঁর চোখ মােবারকে সুরমা লাগানাে, অথচ তিনি সুরমা ব্যবহার করেননি। তাঁর পায়ের গােড়ালী কোমল ও সুশ্রী তিনি মুচকী হাসি ছাড়া অট্ট হাসি দিতেন না।
১৯. ইমাম তিরমিযী : আল-জামি', কিতাবুল মানাকিব, বাবু ফী সিফাতিন নবী; ইমাম আহমদ : আল-মুসনাদ, খ. ২, পৃ. ২৫৮।
২০, ইমাম মুসলিম : আল-জামি', কিতাবুল ফাদ্বায়িল-বাবু সিফাতি ফামিন নবী; ইমাম তিরমিযী : আল-জামি', কিতাবুল মানাকিব-বাবু ফী সিফাতিন নবী।
২১. ইমাম তিরমিযী : কিতাবুল মানাক্বি-বাবু ফী সিফাতিন নবী।
◼ হযরত মুহাম্মদ ইবন আলী (ক.) তাঁর পিতা হযরত আলী থেকে বর্ণনা করেন। ২২
كان رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه وسلم عظيم العينين ، و أهدب الاشفار ، مشرب العین بحمرة
নবী করীম (ﷺ) এর চোখ বড় ছিল, এর পাতা ছিল লম্বা, চোখের সাদা অংশের মধ্যে কিছুটা লালছে ছিল।
◼ অপর এক বর্ণনায় হযরত আলী (ক.) বলেন, ২৩
তাঁর (ﷺ) -এর চোখের পুতলী মােবারক ছিল কালাে বর্ণের। নবী করীম (ﷺ) এর চোখ মােবারকের এমন অতি আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল যা দিয়ে স্বয়ং প্রভুকে অবলােকন করেছেন, খােদার খােদায়ী দেখেছেন।
২২. ইমাম বায়হাক্বী : প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ২১২; ইমাম আহমদ : আল-মুসনাদ, হাদীস নং ৬৪৮।
২৩. ইমাম বায়হাক্বী : প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ২১২-২১৩। ২৪, মিশকাতুল মাছাবীহ : পৃ. ৬৯।
◼ হযরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) বলেন٫ ২৪
قال رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه وسلم رأيت ربي عز وجل في احسن صورة-
নবী করীম (ﷺ) বলেন, আমি আমার প্রভুকে সুন্দরতম আকৃতিতে দেখেছি।
◼ হযরত ইবন আব্বাস (রা.) বলেন, নিশ্চয় নিশ্চয় নবী করীম (ﷺ) স্বীয় প্রভুকে দু'বার দেখেছেন। একবার কপালের চক্ষু দ্বারা আরেকবার অন্তরের চক্ষু দ্বারা।
তিনি আরাে বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আ.) কে বন্ধুত্ব, মুসা (আ.) কে আলাপ এবং হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) কে সাক্ষাত দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। ২৫
কেউ কেউ বলেছেন, তিনি (ﷺ) স্বীয় প্রভুকে অনেকবার দেখেছেন।
◼ হযরত সাওবান (রা.) বলেন, ২৬
নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা আমার জন্যে যমীনকে জড় করলেন। অর্থাৎ জড় করে হাতের তালুর মত করে দিলেন, এমনকি আমি সমগ্র যমীন এবং পূর্ব-পশ্চিম দেখে নিলাম।
◼ হযরত আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ২৭
নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা'আলা আমার জন্য দুনিয়ার পর্দা সমূহ তুলে দিয়েছেন, সুতরাং আমি দুনিয়া এবং তাতে কিয়ামত পর্যন্ত যা হবার সব কিছু এরূপ দেখেছি যেমন আমার এ হাতের তালুকে দেখছি।
◼ হজরত ইবন আব্বাস (রা.) বলেন, ২৮
নবী করীম (ﷺ) দিনের আলােতে যেরূপ দেখতেন রাতের অন্ধকারেও সেরূপ দেখতেন।
◼ হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ২৯
নবী করীম (ﷺ) -এরশাদ করেন, নিশ্চয় আমি আমার পিছনে সেরূপ দেখি, যেরূপ আমার সম্মুখে দেখি।
২৫, ‘আল্লামা যারক্বানী : প্রাগুক্ত, খ, ৬, পৃ. ১১৭; জালালুদ্দিন সুয়ুত্বী : আল খাসায়িসুল কুবরা, খ, ১, পৃ. ১৬১
২৬. ইমাম মুসলিম : আল-জামি' খ. ২, পৃ. ৩৯০।
২৭. “আল্লামা যারক্বানী : প্রাগুক্ত, খ. ৭, পৃ. ২০৪।
২৮. জালালুদ্দীন সুয়ুত্বী : প্রাগুক্ত, খ, ১, পৃ. ৬০; ‘আল্লামা যারক্বানী ; প্রাগুক্ত, খ. ৪, পৃ. ৮৩।
➖➖
◼ তিনি আরাে বলেন, ৩০
নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, তােমরা আমার মুখ শুধু কিবলার দিকেই দেখছ? আল্লাহর শপথ! আমার কাছে না তােমাদের রকু লুকায়িত না তােমাদের বিনয়-নম্রতা। নিশ্চয় আমি তােমাদেরকে আমার পিছন হতেও দেখি।
◼ হযরত আবু যর গিফারী (রা.) বলেন, ৩১
নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি তা দেখি যা তােমরা দেখনা।
মােদ্দা কথা : উজ্জ্বল দিন ও অন্ধকার রাতে নবী করীম (ﷺ) -এর অবলােকনে কোন তারতম্য নেই। কেননা যখন আল্লাহ তা'আলা তাঁকে প্রচ্ছন্ন বিষয়ের অবগতি এবং অজ্ঞস্থ বিষয়াবলীর পূর্ণ উপলদ্ধি দান করেছেন, অনুরূপভাবে তাঁর চক্ষু মােবারকেও প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব বিষয়ের উপলদ্ধি দান করেছেন। ৩২
_________________
কিতাবঃ হৃদয়ের আয়নায় নবী করীম (ﷺ)
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ আবদুল হালিম
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন