◼ নবী করীম (ﷺ) এর মুখ মােবারক প্রশস্ত গন্ডদেশ মসৃণ, সর্বাপেক্ষা সুদর্শন ও মধুর কণ্ঠ ছিল। মধুর কণ্ঠ ছাড়াও তাঁর কণ্ঠস্বর এত উঁচু ছিল যে, যতদূর আওয়াজ পৌঁছত অন্য কারাে আওয়াজ পৌঁছত না। হাজার হাজার লােকের সমাবেশে যে ব্যক্তি সবার আগে থাকত সে যেরূপ তাঁর আওয়াজ শুনতাে, সবার পিছনে যে ব্যক্তি থাকতাে সেও অনুরূপ শুনতে পেতাে। ৩৩
২৯, আবু আইম ইস্পাহানী : দালাইলুন নবুয়্যত, পৃ. ৩৭৭; জালালুদ্দীন সুয়ূত্নী : প্রাগুক্ত, খ, ১, পৃ. ৬১; আল্লামা যারক্বানী : প্রাগুক্ত, খ, ৪, পৃ. ৮২।
৩০. ইমাম বুখারী : প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ১৫২।
৩১. মিশকাতুল মাছবীহ : পৃ. ৪৫৭।
৩২. “আল্লামা যারক্বানী : প্রাগুক্ত, খ. ৪, পৃ. ৮২; ‘আল্লামা শফি উকাড়ভী : যিক্র-এ-জামীল, (বঙ্গানুবাদ : মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দীন) পৃ. ৮৪।
৩৩. ‘আল্লামা শফি উকাড়ভী : প্রাগুক্ত, পৃ. ১২৬।
নবী করীম (ﷺ) এর মুখ মােবারক হল এমন মুখ যার মাধ্যমে আল্লাহর বাণী বের হতাে। যা দিয়ে কখনাে প্রবৃত্তি প্রসূত কোন কথা বের হয়নি।
◼ আল্লাহ তা'আলা বলেন, ৩৪
وَمَا يَنطِقُ عَنِ الهَوٰى - إِن هُوَ إِلَّا یُّوحٰي
“তিনি মনগড়া কোন কথা বলেন না, এতাে ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়”।
◼ হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা.) বলেন, নবী করীম (ﷺ) থেকে আমি যা কিছু শুনতাম তা লিখে রাখতাম, কুরাইশরা আমাকে বলল, তাঁর (ﷺ) প্রত্যেক কথা লিখা উচিৎ নয়। কেননা মানবীয় দূর্বলতা বশত ক্রোধ ও রাগের সময় এমন কথা বের হতে পারে যা লিখার যােগ্য নয়।
অতঃপর আমি লিখা হতে বিরত রইলাম এবং এ কথা নবী করীম (ﷺ) এর খেদমতে আরয করলাম। নবী করীম (ﷺ) বললেন, তুমি অবশ্যই লিখবে, আর আঙ্গুল দিয়ে তাঁর মুখে ইঙ্গিত করে বললেন, ৩৫
فوالذي نفسي بيده مايخرج منه الا حق
আল্লাহর কসম ! যার নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ রয়েছে, এ মুখ থেকে সর্বাবস্থায় সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বের হয় না।
হযরত বারা ইবনে আযিব (রা.) বলেন, ৩৬ হুদায়বিয়ার দিন নবী করীম (ﷺ) হুদায়বিয়ার কূপ সংলগ্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। সঙ্গে ছিলেন প্রায় চৌদ্দশত সাহাবা (রা.)। সহাবাগণ (রা.) হুদায়বিয়ার কূপের সমস্ত পানি বের করে ফেললেন। এ সংবাদ যখন নবী করীম (ﷺ)
-এর নিকট পৌঁছাল তখন তিনি ঐ কূপে তাশরীফ আনলেন এবং তাঁর কিনারায় বসে এক পাত্র পানি আনতে বললেন, অতঃপর ওযু করলেন এবং মুখে পানি দিয়ে কুলি করে তা কূপে নিক্ষেপ করতঃ দুআ করলেন, আর বললেন, কিছুক্ষণ তাকে এ অবস্থায় ছেড়ে দাও। অতঃপর ঐ কূপে এ পরিমাণ পানি জমা হয়ে যায় যে, সকল সাহাবা ও তাঁদের বাহন প্রায় বিশ দিন যাবত পরিতৃপ্ত সহকারে পানি পান করেছেন।
৩৪. সূরা নাজম : আয়াত নং ৩-৪।
৩৫. ইমাম আবু দাউদ : আস্ সুনান, কিতাবুল ইলম।
৩৬. মিশকাতুল মাছবীহ : পৃ. ৫১৩।
◼ হযরত জাবির (রা.) খন্দক যুদ্ধের সময় সামান্য খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং নবী করীম (ﷺ) এর দরবারে এসে আরয করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সামান্য খাবার আছে আপনি কয়েকজন সাহাবী সঙ্গে নিয়ে আসুন। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি যাও ! তােমার স্ত্রীকে বলে দিবে আমি না আসা পর্যন্ত হাড়ি যেন চুলা থেকে না নামায় এবং রুটি তৈরি না করে। আর উচ্চ স্বরে ঘােষণা দিয়ে ফরমালেন, হে পরিখা খননে লিপ্ত সাহাবীগণ ! জাবির আমাদেরকে দাওয়াত করেছেন, সবাই চলাে। হযরত জাবির (রা.) বলেন, এ ঘােষণা শুনে আমি তাড়াতাড়ি ঘরে চলে গেলাম এবং বিবিকে বললাম, হে সৌভাগ্যবতী ! নবী করীম (ﷺ) সকল মুহাজির, আনসার ও অপরাপর সাথীদের নিয়ে তাশরীফ আনছেন। জাবিরের স্ত্রী বলল, আপনি কি ওটা বলেননি যে, খাবারের আয়ােজন খুব সংক্ষেপ? জাবির বললেন, হ্যাঁ ! সে বলল, তা হলে চিন্তার কোন কারণ নেই। নবী করীম (ﷺ) তাশরীফ আনলেন, অতঃপর আমি ঠাসা করা আটা তাঁর সম্মুখে আনলাম। তিনি (ﷺ) ওতে তাঁর মুখের থুথু মােবারক নিক্ষেপ করলেন এবং বরকতের দুআ করলেন, অতঃপর হাঁড়ির দিকে অগ্রসর হলেন, তাতেও তাঁর থুথু মােবারক নিক্ষেপ করলেন, এবং বরকতের জন্য দু'আ করলেন, খাবার যখন তৈরি হলাে তখন বিতরণ শুরু করলেন। হযরত জাবির (রা.) শপথ করে বলেন, সাহাবীদের সংখ্যা ছিল এক হাজার। সবাই পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করেছেন। কিন্তু তারপরও খাবার সেরূপ থেকে যায় যেন কেউ আহারই করেনি। ৩৭
◼ হযরত হােবাইবের পিতা হযরত ফোদাইক (রা.)-এর চক্ষুদ্বয় সর্পের ডিমের উপর পা রাখার কারণে জ্যোতিহীন হয়ে যায়। উভয় চক্ষু দ্বারা কিছুই দেখতেন না। অতঃপর নবী করীম (ﷺ) তার চক্ষুদ্বয়ে থুথু মােবারক দিলেন। তখন তিনি দৃষ্টিমান হয়ে গেলেন এবং সবকিছু দেখতে লাগলেন। একলন বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে দেখেছি যে, আশি বৎসর বয়সেও তিনি সূচের মধ্যে সূতা ঢুকাতেন। ৩৮
◼ হযরত সাহল ইবন সা'দ (রা.) বলেন, খায়বার যুদ্ধে হযরত আলী (রা.)-এর চোখে আঘাত পেয়েছিলেন, নবী করীম (ﷺ) তাঁকে ডাকলেন আর নিজ মুখের থুথু মােবারক তাঁর চক্ষুদ্বয়ে নিক্ষেপ করলেন এবং দুআ করলেন, অতঃপর তিনি তৎক্ষনাৎ সুস্থ হয়ে গেলেন, যেন কোন সময় তাঁর চোখে আঘাত ছিল না। ৩৯
◼ ইমাম আ'যম কতই সুন্দর গেয়েছেন— ৪০
وعلى من رمد به داويته + في خيبر فشفی بطيب لماك
খায়বার যুদ্ধে যখন ‘আলী (রা.)-এর চক্ষুদ্বয় আঘাত প্রাপ্ত হয়, আপনার থুথু মােবারক লাগানাের ফলে তখনই সুস্থ হয়ে উঠেছিল।
◼ হযরত রিফআ (রা.) বলেছেন,
বদরের দিন আমার চোখে তীরের আঘাত লেগেছিল ফলে তা বিদীর্ণ হয়ে যায়। নবী করীম (ﷺ) তাতে তাঁর থুথু মােবারক নিক্ষেপ করলেন এবং দু'আ করলেন। অতঃপর
তীরাঘাতের সামান্যতম কষ্টও আমার থাকেনি এবং চোখ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। ৪১
৩৭. জালালুদ্দীন সুয়ুত্বী : আল-খাসায়িসুল কুবরা, খ, ১, পৃ. ২২৭।
৩৮. ‘আল্লামা যারক্বানী : শরহুল মাওয়াহিব, খ, ৫, পৃ. ১৮৮; জালালুদ্দীন সুয়ূত্নী : আল-খাসায়িসুল কুবরা, খ, ২, পৃ. ৬৯।
৩৯. ইমাম বুখারী : আল-জামি' , পৃ. ৬০৬।
৪০. কাসীদায়ে নােমান।
◼ এভাবে হযরত আবু কাতাদা (রা.)-এর চেহরার আঘাত, হযরত সালমা ইবনে আকওয়া (রা.)-এর পায়ের গােড়ালীর আঘাত, হযরত কলুসুম ইবুন হােসাইনের বক্ষের আঘাত, হযরত মুআয ইবুন আফরা (রা.)-এর হাতের আঘাত, হযরত আলী ইবন হাফস (রা.) এর পায়ের গােছার আঘাত হযরত হাবীব ইবন ইয়াফাস (রা.)-এর কাঁধের আঘাত নবী করীম (ﷺ) এর থুথু মােবারকের উছিলায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। ৪২
৪১. জালালুদ্দীন সুয়ূত্নী : প্রাগুক্ত, খ. ১ পৃ. ২০৫।
৪২, ‘আল্লামা শফি উকাড়ভী : প্রাগুক্ত, পৃ. ১৪০-১৪৬।
_________________
কিতাবঃ হৃদয়ের আয়নায় নবী করীম (ﷺ)
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ আবদুল হালিম
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন