নবী করীম (ﷺ) এর হাত ও বাহু মােবারক


◼ নবী করীম (ﷺ) এর হাতের তালু ও বাহু মােবারক ছিল মাংসপূর্ণ, রেশম অপেক্ষা কোমল ও অত্যন্ত সুগন্ধময়। যে ব্যক্তির সাথে তিনি মুসাফাহা করতেন সে সারা দিন হস্তয় থেকে সুগন্ধি পেতাে। ৭৩


◼ হযরত জাবির ইবন সামুরা (রা.) বলেন, ৭৪

একদা আমি নবী করীম (ﷺ) এর সাথে যােহরের সালাত আদায় করলাম। যখন তিনি মসজিদ থেকে বাইরে আসলেন তখন আমিও তাঁর সাথে ছিলাম। শিশুরা তাঁর সামনে এলাে, তিনি (ﷺ) তাদের প্রত্যেকের গন্ডদেশে তাঁর হাত মােবারক বুলাতে থাকেন। আমার গন্ডদেশও তিনি হাত বুলিয়ে দেন।



فوجدت ليده بردًا و ريحًا كانما اخرجها من جونة عطار .


আমি তাঁর হাত মােবারকের শীতলতা ও সুগন্ধি এরূপ পেলাম যেন তিনি তাঁর হাত আতরের পাত্র থেকে বের করেছেন।



◼ হযরত আনাস (রা.) বলেন, ৭৫


আমি নবী করীম (ﷺ) এর হাতের তালু অপেক্ষা কোমল কোন রেশম ও মখমলকেও পাইনি এবং তাঁর সুগন্ধি অপেক্ষা অধিক সুবাসিত কোন মেশক আম্বর ইত্যাদিও পাইনি। আর এটাই সে নূরানী হাত যাতে সৃষ্টিকুলের নি'আমতরাজী লুকায়িত এবং সমুদয় বরকত এতে গুপ্ত রয়েছে। যেমন



৭৩, ‘আল্লামা শফি উকাড়ভী : প্রাগুক্ত, পৃ. ১৯৭।


৭৪. ইমাম মুসলিম : আল-জামি', খ. ২, পৃ. ২৫৬।


৭৫. ইমাম বুখারী : আল-জামি', খ, ১, পৃ. ২৬৪।



◼ হযরত উক্ববা (রা.) বলেন,৭৬ নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন,



اني اعطيت مفاتيح خزائن الأرض أو مفاتیح الأرض -


নিশ্চয়ই আমাকে পৃথিবীর সমুদয় ভান্ডারের চাবিসমূহ দান করা হয়েছে।



◼ হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,৭৭ নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন, আমাকে পৃথিবীর সম ভান্ডার দান করা হয়েছে এবং তা আমার দুহাতে রেখে দেয়া হয়েছে।



◼ হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন,৭৮


নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন, আমাকে সমগ্র পৃথিবীর চাবিসমূহ দান করা হয়েছে। হযরত জিব্রাইল (আঃ) ঐ গুলাে সাদা কালাে রং বিশিষ্ট একটি অশ্বপৃষ্ঠে রেখে আমার কাছে আনেন এবং চাবিগুলাে রেশমী চাদরে ঢাকা ছিল।



◼ হযরত আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা.) বলেন, ৭৯


নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন, আমাকে প্রত্যেক বস্তুর চাবিসমূহ দান করা হয়েছে।


আর এটা যে নূরানী হাত- যাকে আল্লাহ তা'আলা নিজের কুদরতী হাত বলেছেন এবং সে পবিত্র হাতে বায়াত গ্রহণকারীদেরকে এ সুসংবাদ দিয়েছেন। যেমন- আল্লাহ তা'আলা বলেন, ৮০


ید اللّٰه فوق ایدیهم


 তাঁদের হাতের উপর আল্লাহর হাত রয়েছে।


এ বরকতময় হাতের ইশারায় ডুবন্ত সূর্য পুনরায় উদিত হয়, চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হয়, রােগী আরােগ্য লাভ করে, মুষ্টিবদ্ধ কংকর কথা বলে, নবী বলে সাক্ষ্য দেয়, কারাে মুখে সে নূরানী হাত বুলিয়ে দিলে সে চেহরা এত উজ্জ্বল হয় যে, তাঁর চেহরায় বস্তু সমূহের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। সে নূরানী হাত হযরত আলী (রা.)-এর বক্ষে মারলে তাঁর বিচারিক শক্তি বেড়ে যায়। অজ্ঞ চক্ষু খুলে যায়। এমন হাত মােবারক যা হযরত মা ফাতেমার গলার নীচে রাখলে কষ্ট চলে যায়। যে হাত মােবারক হযরত মদক ফরাযী (রা.)-এর মাথায় বুলিয়ে দিলে তার মাথার চুল কালাে থেকে যায়। হযরত উসমান ইবুন আবুল আস (রা.)-এর বক্ষে সে নূরানী হাত মারলে তার থেকে খিনার নামক শয়তান দূর হয়ে যায়। বদর যুদ্ধে হযরত আমাশা ইন মিহসানের তরবারী ভেঙ্গে গেলে তাকে একখানা শুস্ক কাঠ দিয়ে বললেন, যাও এটা দিয়ে যুদ্ধ কর। সে কাঠটি নূরানী হাতের বরকতে তলােয়ার হয়ে যায়। অনুরূপভাবে উহুদ যুদ্ধে হযরত ‘আব্দুল্লাহ  ইবন জাহাশের তরবারী ভেঙ্গে গেলে তিনি (ﷺ) তাঁকে খেজুর গাছের এক খানা ডাল দান করলেন। তা মূহুর্তের মধ্যে চকচকে তরবারী হয়ে গেল।



◼ হযরত কাতাদাহ ইন নূমান (রা.) অন্ধকার রজনীতে চলার জন্য নবীজী (ﷺ) তাঁকে এক খানা খেজুর গাছের ডাল দিলেন। মূহুর্তের মধ্যে তা আলাে দিতে শুর করল। তার এ নূরানী হাতের স্পর্শে পানির ফোয়ারা প্রবাহিত হয়। মুষ্ঠিমেয় খেজুরের উপর হাত রাখতেই তা বরকতে ভরপুর হয়ে গেল। মূলতঃ তাঁর হাত মােবারকের অসংখ্য মু'জিযাত প্রকাশিত হয়েছে যা বর্ণনার বাইরে।৮১



৭৬. ইমাম বুখারী : আল-জামি', খ, ২, পৃ. ৫৫৮; ইমাম মুসলিম : আল-জামি', খ, ২, পৃ. ২৫০।


৭৭. ইমাম বুখারী : প্রাগুক্ত, খ.২, পৃ.১০৪২; ইমাম মুসলিম : প্রাগুক্ত, খ.২, পৃ. ২৪৪।


৭৮. জালালুদ্দীন সুয়ুত্বী : আল-খাসায়িসুল কুবরা, খ, ২, পৃ. ১৯৫; আল্লামা যারক্বানী : শরহুল মাওয়াহিব, খ. ৫, পৃ. ২৬০।


৭৯. জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী : প্রাগুক্ত, খ. ২, পৃ. ১৯৫।


৮০. সূরা আল-ফাতহ, আয়াত নং -১০।


৮১. “আল্লামা শফি উকাড়ভী : প্রাগুক্ত, পৃ. ২০৬-২৩০।

_________________

কিতাবঃ হৃদয়ের আয়নায় নবী করীম (ﷺ)

লেখকঃ ড. মোহাম্মদ আবদুল হালিম

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন