নবী করীম (ﷺ) এর পেট ও বক্ষ মােবারক সমান ও সমতল ছিল। বক্ষ মােবারক সামান্য উত্থিত ও প্রশস্ত ছিল। বক্ষ মােবারকের মধ্যখানে কেশপুঞ্জের একটি পাতলা রেখা, যা নাভী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ছিল। বক্ষ মােবারকের উপরিভাগের উভয় পার্শ্বে কেশ ছিল না। সে নূরানী বক্ষ ও ক্বলব মােবারকের প্রশস্ততার বর্ণনাদান মানবীয় শক্তি বহির্ভূত।
◼ তাঁর বক্ষ মােবারকের প্রশস্ততা সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন। ৮২
الم نشرح لك صدرك -
হে প্রিয় হাবীব (ﷺ)! আমি কি আপনার বক্ষ প্রশস্ত করে দিইনি।
◼ ‘শরহু সদর শব্দের অর্থ বক্ষ প্রশস্ত করে দেয়া। এটা হেদায়তের শেষ ধাপ। এ ধাপে পৌঁছলে জড় জগত, আধ্যাত্মিক জগত, লাহুত ও জাবরূত জগতের বাস্তবতা সমূহ উম্মুক্ত হয়ে যায়। জিহ্বা অদৃশ্য রহস্যাবলীর চাবিকাঠি এবং অল্প তার ভান্ডারে পরিণত হয়। অতঃপর তিনি যা বলেন, অদৃশ্য জগতে প্রত্যক্ষ করেই বলেন, বক্ষ প্রসারণের প্রভাব এ ছিল যে, দুনিয়া ও তার মধ্যস্থিত সব কিছু তাঁর কাছে মাছির ডানার সমানও গুরত্ব রাখত না। ৮৩
নবী করীম (ﷺ) এর বক্ষ ও ক্বলব মােবারকের উপমা আল-কুরআনে অত্যন্ত চমৎকার ভাবে সূরা আন-নূর-এর ৩৫ নং আয়াতে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন ‘আল্লাহ আলাে আসমান ও যমীনের। তাঁর আলাের উপমা এমনই।যেমন- একটা দীপাধার, যার মধ্যে রয়েছে প্রদীপ, ঐ প্রদীপ একটা ফানুসের মধ্যে স্থাপিত। ঐ ফানুস যেন একটি নক্ষত্র, মুক্তার মত উজ্জ্বল হয় বরকতময় বৃক্ষ যায়তুন দ্বারা, যা না প্রাচ্যের, না প্রতীচ্যের; এর নিকটবর্তী যে সেটার তৈল প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠবে যদিও আগুন সেটাকে স্পর্শ না করে আলাের উপর আলাে। আল্লাহ আপন আলাের প্রতি পথ নির্দেশনা দান করেন যাকে ইচ্ছা করেন এবং আল্লাহ উপমা সমূহ বর্ণনা করেন মানুষের জন্য, এবং আল্লাহ সব কিছু জানেন।'
৮২. সূরা আলাম নাশরাহ, আয়াত নং -১।
৮৩. ‘আল্লামা শফি উকাড়ভী : প্রাগুক্ত, পৃ. ২৪৯।
◼ হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা.) হযরত কা'ব আল- আহবার (রা.)-এর নিকট আসলেন, অতঃপর বললেন, আমাকে আল্লাহ তা'আলার উক্ত বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করুন। তিনি বলেন, উক্ত আয়াত হলাে নূরী মুহাম্মদ (ﷺ) -এর উদাহরণ। আল্লাহর বাণী : کمشکواة (দীপাধারের মত) দ্বারা নবী করীম (ﷺ) এর মুখ মােবারক উদ্দেশ্য। তাঁর বাণী فیها مصباح (এতে প্রদীপ রয়েছে) দ্বারা নবী করীম (ﷺ) এর পবিত্র ক্বলব তথা অলঙ্করণ উদ্দেশ্য। তাঁর বাণী فی زجاجة (কাঁচের পাত্র) দ্বারা নবী করীম (ﷺ) এর পবিত্ৰ বক্ষ মােবারক উদ্দেশ্য, তাঁর বাণী کانها کوکب دری (ঐ ফানুস যেন একটি নক্ষত্র, মুক্তার মত উজ্জ্বল হয়) দ্বারা নবী করীম (ﷺ) এর পবিত্র বক্ষ মােবারক থেকে মুক্তার ন্যায় চর্তুদিকে যে জ্যোতি বিকরণ হতাে তা উদ্দেশ্য। তাঁর বাণী- المصباح (প্রদীপ) দ্বারা নবী করীম (ﷺ) এর ক্বলব মােবারক উদ্দেশ্য। তাঁর বাণী توقد من شجرة مبارکة زیتونة (বরকতময় বৃক্ষ যায়তুনের তৈল দ্বারা প্রজ্বলিত হয়ে উঠবে) বরকতময় বৃক্ষের তৈল দ্বারা প্রজ্বলন করেছে। তাঁর বাণী- یکاد زیتها یضٸ (এর নিকটবর্তী যে, সেটার তৈল প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠবে) নবী করীম (ﷺ) পবিত্র মুখ মােবারকে না বললেও মানুষের নিকট স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তিনি নবী যেরূপ তৈল প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে আলােকিত হয়। ৮৪
নবী করীম (ﷺ) এর নূরানী বক্ষ মােবারক সে পূতপবিত্র বক্ষ যার মধ্যে আল্লাহ তা'আলার রহস্যাবলী, মা'রিফাত সমূহ এবং অসংখ্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের অসীম ও কিনারাহীন মহাসাগর তরঙ্গায়িত হচ্ছে। প্রিয় হাবীব (ﷺ) কে মহান আলাহ তা'আলা যা কিছু হবে, হচ্ছে এবং হয়েছে সব কিছুর ‘ইলম দান করেছেন। আর তিনিও অদৃশ্য বিষয়ের সংবাদ দানে কৃপন নন।
৮৪. জালালুদ্দীন সুয়ুত্বী : আদ-দুররল মনসূর, খ, ১১, পৃ. ৬৪-৬৫।
◼ যেমন: আল্লাহ তা'আলা বলেন, ৮৫
وما هو علی الغیب بضنین
এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে খাযিন বলেন,৮৬
يقول انه ياتيه علم الغيب و لايبخل به عليكم و يخبركم به -
আল্লাহ তা'আলা বলেন, এ মহান নবী (ﷺ) এর নিকট ইলমে গায়ব আসে অতঃপর তিনি তাঁর সংবাদ দানে কার্পন্য করেন না এবং তােমাদেরকে তার সংবাদ প্রদান করেন।
আর মহান আল্লাহ স্বীয় হাবীবকে যে কিতাব দান করেছেন তাতে সব কিছুর বর্ণনা রয়েছে। কোন কিছুই বাদ যায়নি। যেমনঃ
◼ আল্লাহ তা'আলা বলেন,৮৭ ما فرطنا فی الکتاب من شٸ আমি কিতাবে কোন কিছুই বাদ দিইনি। এ মহান কিতাব প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
◼ যেমন তিনি বলেন,৮৮ ونزلنا علیك الکتاب تبیانا لکل شٸ আমি আপনার প্রতি প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা স্বরূপ কিতাব অবতীর্ণ করেছি।
পঞ্চ জ্ঞান সম্পর্কেও নবী করীম (ﷺ) অবগত আছেন। অর্থাৎ কিয়ামত কখন হবে ? কবে কোথায় ও কি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হবে ? জলবায়ুতে কি আছে ? আগামী কল্য কি হবে ? এবং কার মৃত্যু কোথায় ঘটবে? এ পঞ্চ জ্ঞান সম্পর্কেও তিনি (ﷺ) সম্মক অবগত আছেন।
◼ ‘আল্লামা আহমদ ইবন মুহাম্মদ সাভী (রহ.) বলেন,৮৯
الحق انه لم يخرج نبينا صلى الله عليه وسلم من الدنيا حتى اطلعه على تلك الخمس ولكنه امر بكتمها .
৮৫. সূরা তাকভীর : আয়াত নং- ২৪। ৮৬. তাফসীরে খানি : উক্ত আয়াতের তাফসীর দ্র.
৮৭. সূরা আনআম : আয়াত নং- ৩৮।
৮৮. সূরা নাহল : আয়াত নং- ৮৯।
৮৯. তাফসীরে সাভী : খ, ৩, পৃ. ২৪৪।
প্রকৃত বিষয় হলাে এই যে, আমাদের নবী করীম (ﷺ) দুনিয়া থেকে তাশরীফ নিয়ে যাননি যতক্ষণ না ঐ পঞ্চ জ্ঞান সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত করা হয়। কিন্তু তাঁকে সে গুলাে গােপন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
◼ ইমাম আবদুল ওয়াহহাব শারানী (রা.) বলেন, ৯০
واوتی علم كل شئ حتى الروح والخمس التي في اية أن اللّٰه عنده علم الساعة -
এবং নবী করীম (ﷺ)কে প্রত্যেক কিছুর জ্ঞান দান করা হয়েছে এমনকি রূহ এবং ঐ পঞ্চ জ্ঞানেরও যে গুলাের বর্ণনা আয়াতে রয়েছে।
নবী করীম (ﷺ) এর ক্বলব মােবারকের অবস্থা এমন যে, তাঁর দু'চোখ মােবারক ঘুমায় কিন্তু তাঁর ক্বলব মােবারক ঘুমায় না। এক মুহুর্তের জন্যও তিনি আল্লাহর যিকির থেকে বিরত থাকেন না।
_________________
কিতাবঃ হৃদয়ের আয়নায় নবী করীম (ﷺ)
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ আবদুল হালিম
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন