আল্লাহ তা'আলার অনুপম ও সর্বোত্তম সৃষ্টি হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)। আল্লাহ স্বীয় নূর হতে তাঁকে কুদরতের হাতে বেনযীর বেমেসাল তুলনাবিহীনভাবে সৃষ্টি করেছেন। আর অপরাপর সৃষ্টি প্রিয় হাবীবের নূর হতে সৃজন করেছেন। সর্বোচ্চ ‘হাবীব’-এর মাকামে অধিষ্ঠিত তিনি। ছায়া বিহীন কায়া বিশিষ্ট এ নূরী মহা মানব মুমিনের ধ্যানের ছবি, নূরের রবি। তাঁর শরীর মােবারক অতি পবিত্র, বরকতময় ও সুগন্ধি বিশিষ্ট। তাঁর শরীর মােবারক স্পর্শিত কবরের ধুলা-বালি ‘আরশে ‘আযীমের চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও ফযীলত ওয়ালা। তাঁর নূরানী প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মােবারকে আল্লাহ তা'আলার কুদরত ও নবী (ﷺ) -এর মুজিযা প্রস্ফুটিত। তাঁর ব্যবহার্য সব কিছুই অতি মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতমন্ডিত। এমন নূরানী নবীকে মুমিন যখন স্মরণ করেন, সালাতু সালাম পাঠ করেন তখন হৃদয়ের মণিকোঠায় এক ঐশ্বিরিক অবয়ব গঠন করে তৃপ্তি লাভ করার চেষ্টা করেন। শয়নে স্বপনে যা কল্পনা করা হয় তার চেয়ে কোটি গুণ সুন্দর তিনি। সকলে আল্লাহর হাবীবকে দেখতে চায়। কেননা যেহেতু তিনি সৃষ্টি জগতের প্রাণ স্পন্দন, সকল সৃষ্টির চাওয়া পাওয়া। তাঁরই ধ্যানে ব্যাকুল সৃষ্টি জগত। মূমিন যখন নবীজীকে স্মরণ করেন তখন সাহবীদের (রা.) মুখনিঃসৃত বক্তব্য মূলে তাঁকে কল্পনা ও স্মরণ করা যায়। আর যারা ভাগ্যবান নবীজী স্বয়ং তাঁদের দেখা দিয়ে ধন্য করেন। নবী করীম (ﷺ) এর প্রতি উম্মত ভালবাসায় মত্ত থাকেন। নবীর ভালবাসা ও মমত্ববােধ উম্মতের প্রতি চিরস্তা। উম্মতের মায়ায় নবী সব সময় চিন্তিত থাকেন। উম্মতের ব্যথায় তিনি ব্যথিত হন। এমন দয়া ও রহমতের সাগর নবীকে একটু ধ্যান-স্মরণ করে নিই
◼ হযরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, নবী করীম (ﷺ) -এর চেহরা মােবারক সকল মানুষ অপেক্ষা সুন্দরতম এবং তাঁর রং ছিল সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বল । যিনিই তাঁর সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন, তিনি তাঁকে পূর্ণিমার চন্দ্রের সাথে তুলনা করেছেন। তাঁর চেহরা মােবারকে ঘর্মবিন্দু মনে হতাে যেন উজ্জ্বল মুক্তা। ৪
◼ হযরত কা'ব ইবন মালিক (রা.)-এর দৃষ্টিতে নবী করীম (ﷺ) -এর চেহরা মােবারক যেন চন্দ্রের টুকরা। তিনি বলেন, আমরা তাঁকে এরূপই চিনি। ৫
◼ হযরত আবু ইসহাক্ব (রা.) তাঁর স্ত্রীকে বললেন, নবী করীম (ﷺ) এর তুলনা কী রূপ? তিনি (ﷺ) পূর্ণিমার চন্দ্রের ন্যায় সুন্দর। তাঁর মত সুন্দর এর আগে বা পরে আর কাউকে দেখিনি। ৬
◼ নবী করীম (ﷺ) যখন আনন্দিত হতেন তখন তাঁর চেহরা মােবারক আয়নার মত হয়ে যেত, যাতে বস্তু সমূহের ছবি দেখা যেত এবং দেওয়াল সমূহ তাঁর চেহরা মােবারকে দৃষ্টি গােচর হতাে। ৭
◼ হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী করীম (ﷺ) অপেক্ষা সুন্দর আমি কাউকে দেখিনি। তাঁর চেহরা মােবারকে যেন সূর্য চলছে।” ৮
◼ হযরত হাসান ইবন সাবিত (রা.) কতইনা সুন্দর গেয়েছেন—
متى يبد في الليل البهيم جبينه + بلج مثل مصباح الدجى الموقد
যখন অন্ধকার রাত্রে তাঁর কপাল মােবারক প্রকাশিত হতাে, তখন অন্ধকার উজ্জ্বল প্রদীপের মত আলােকিত হয়ে উঠতাে। ৯
৪. আল্লামা যারক্বানী : শারহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়া, খ, ৪, পৃ. ২২৫।
৫. ইমাম বুখারী : প্রাগুক্ত, কিতাবুল মানাক্বি, বাবু সিফাতিন নবী (ﷺ)।
৬. আল-মীযান, খ. ৪, পৃ. ৪৮৫।
৭. ‘আল্লামা যারক্বানী : প্রাগুক্ত, খ. ৪, পৃ. ৮০।
৮. মিশকাতুল মাছবীহ, পৃ. ৫১৮; ইমাম বায়হাক্বী : প্রাগুক্ত, খ, ১, পৃ. ২০৬; ইমাম আহমদ : আল-মুসনাদ, হাদীস নং ৯৪৪।
৯. ‘আল্লামা যারক্বানী : প্রাগুক্ত, খ. ৪, পৃ. ৯১।
◼ আল্লাহর রাসূলের বিশিষ্ট খাদেম হযরত আনাস ইবন মালিক (রা.) বলেন, নবী করীম (ﷺ) এর রং উজ্জ্বল ফর্সা। পবিত্র চেহরা মােবারকে ঘর্মবিন্দু মুক্তার মত দেখাতাে।” ১০
হযরত ‘আম্মার (রা.)-এর নাতী আবু উবাইদা (রা.) মহিলা সাহাবী হযরত রূবাই বিনতে মুআভভিয (রা.) কে বললেন নবীজীর দৈহিক গঠন বর্ণনা করন, ১১ তখন তিনি বলেন, তুমি যদি তাঁকে দেখতে তাহলে মনে করতে যে, উদয়মান সূর্য। হযরত আনস (রা.) বলেন, ১২
عن انس رضی اللّٰه تعالى عنه ، ما بعث اللّٰه نبيّا قط الا بعثه حسن الوجه ، حسن الصوت ، حتى بعث نبيكم صلى اللّٰه عليه و سلم فبعثه حسن الوجه ، حسن الصوت -
আল্লাহ তা'আলা কখনাে কোন নবী প্রেরণ করেননি, তবে হ্যাঁ প্রেরণ করেছেন সুন্দর চেহরা বিশিষ্ট এবং সুন্দর আওয়াজ বিশিষ্ট, এমনকি তােমাদের নবী (ﷺ)কেও প্রেরণ করেছেন সুন্দর চেহরা ও সুন্দর আওয়াজ বিশিষ্ট করে ।
হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেন, ১৩
عن ابی بکر رضی اللّٰه تعالی عنه ، كان وجه رسول اللّٰه صلى الله عليه و سلم كدارة القمر -
১০. মিশকাতুল মাছবীহ, ৫১৬; ইমাম মুসলিম : প্রাগুক্ত, কিতাবুল ফাদ্বায়িল হাদীস নং ৮২/২৩৩০; ‘আল্লামা ইউসুফ নাবহানী : মাজমু আরবাইনাত,পৃ.১২৪।
১১, মাজমাউস যাওয়ায়িদ, খ.৮, পৃ. ২৮০; ইমাম দারেমী : আস-সুনান, হাদীস নং ৬০; ইমাম ত্বাবানী : আল-মু'জামুল কবীর, হাদীস নং ৬৯৬; ইমাম বায়হাক্বী : প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ২০০।
১২. ইবন আসাকির : তারিখু মদিনাতি দামেশক্ব, খ, ৪ পৃ. ৫-৬; আল্লামা | ইউসুফ নাবহানী : মাজমূ' আরবাইনাত, পৃ. ১১২।
১৩. ‘আল্লামা ইউসুফ নাবহানী : মাজমূ' আরবাইনাত, পৃ. ১০৮।
_________________
কিতাবঃ হৃদয়ের আয়নায় নবী করীম (ﷺ)
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ আবদুল হালিম
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন