◼ হযরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, নবী করীম (ﷺ) কখনােই পেটভরে আহার করেননি এবং কোন সময় দারিদ্রের অভিযোগও কারাে নিকট করেননি।
তাঁর এ দারিদ্র্য ছিল ইচ্ছাধীন, যা নবী করীম (ﷺ) এর নিকট ঐশ্বর্য অপেক্ষা প্রিয়তর ছিল। নচেৎ তাঁর হস্ত মােবারকে কি যে ছিল না ? পৃথিবীর ভান্ডার সমূহের চাবিকাঠি, আল্লাহর সমস্ত নি'আমতরাজি এবং সৃষ্টিকুলের সমুদয় বরকত বিদ্যমান ছিল তাঁর অনুপম হাত মােবারকে।
৯০, কাশফুল গােম্মা : খ, ২, পৃ. ৭৭।
৯১. “আল্লামা যারক্বানী : প্রাগুক্ত, খ. ৪, পৃ. ৩১১।
◼ নবী করীম (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে বলেছেন, যদি আপনি চান তা হলে আমি মক্কার
প্রসস্তময় ভূমিকে আপনার জন্যে স্বর্ণ বানিয়ে দেব, আমি আরয করলাম, হে আমার প্রভু! না, বরং আমি এটাই চাই যে,
اشبع يوما واجوع يوما فاذا جعت تضرعت اليك و ذكرتك فاذا شبعت شكرتك وحمدتك .
একদিন পরিতৃপ্ত থাকব, এবং একদিন ক্ষুধার্ত থাকব। যখন ভুখা থাকব, তােমার সমীপে ক্রন্দন ও মিনতি করব এবং মনে প্রাণে তােমাকে স্মরণ করব আর যখন পরিতৃপ্ত থাকব, তােমার কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা করব। ৯২
তাঁর দারিদ্র্যের অবস্থা এ ছিল যে, পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক রাত্রি অনবরত উপবাস থাকতেন এবং প্রায় তাঁদের রুটি হতাে যবের রুটি। তিনি (ﷺ) কখনাে পাতলা রুটি আহার করেননি লাগাতার দু’দিন পেটভরে যবের রুটি আহার করেননি।
◼ হযরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, আমি যখন কোন সময় পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করি তখন নবী করীম (ﷺ) এর দারিদ্র্যের কথা স্মরণ হয়ে যায়। তখন আমার কান্না আসে। আমি তাঁর ক্ষুধার আবস্থা দেখে কেঁদে উঠতাম এবং আমার হাত তাঁর পেট মােবারকে বুলিয়ে বলতাম, ক্ষুধার কারণে কেমন চাপা পড়ে গেছে। ৯৩
৯২. ‘আল্লামা যারক্বানী : প্রাগুক্ত, খ, ৪, পৃ. ৩২২।
৯৩, ‘আল্লামা শফি উকাড়ভী : প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮৮-২৮৯।
◼ হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, একদা আমি নবী করীম (ﷺ) এর খেদমতে হাযির হলাম এবং দেখলাম তিনি বসেই নামায পড়ছেন। আমি এর কারণ জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি (ﷺ) বললেন, ক্ষুধার কারণে। আমি অভিভূত হয়ে কাঁদতে শুরু করি। তিনি (ﷺ) বললেন, কেঁদো না। যে ব্যক্তি প্রতিদান ও সাওয়াবের নিয়তে ক্ষুধার্ত থাকে, সে কিয়ামত দিবসের কঠিন বিপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।৯৪
◼ নবী করীম (ﷺ) প্রায় সময় ইফতার ও সাহরী বিহীন সাওমে ভিছাল রাখতেন।৯৫
◼ তিনি এমন নূরানী মহা মানব ছিলেন তাঁর মল-মূত্র ও দেহ পরিত্যক্ত সকল দ্রব্য পূতপবিত্র ছিল।৯৬
◼ হযরত উম্মে আয়মন বরকত (রা.) নামক একজন দাসী নবী করীম (ﷺ) এর পবিত্র পেশাব মােবারক পান করে ছিলেন। তাঁকে তিনি (ﷺ) বেহেস্তের সুসংবাদ দিয়ে ছিলেন।৯৭
◼ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রা.) নবী করীম (ﷺ) এর পবিত্র রক্ত মােবারক পান করেছিলেন, ফলে তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।৯৮
◼ উহুদের যুদ্ধে নবী করীম (ﷺ) এর দন্দ মােবারক শহীদ হয়েছে, ওষ্ঠ মােবারকও বিক্ষত হয়ে যায়, যা থেকে রক্ত ঝরা শুরু হয়, হযরত মালেক ইবন সিনান (রা.) তাঁর ওষ্ঠ মােবারক চুষতে শুরু করলেন। যখন তিনি চুষছিলেন নবী করীম (ﷺ) বললেন, তা ফেলে দাও, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আপনার রক্ত মােবারক মাটিতে নিক্ষেপ করব না এবং খেতেই থাকেন, তখন নবী করীম (ﷺ) বলেন,৯৯
فقال رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه وسلم ، من اراد ان ينظر الى رجل من اهل الجنة فلينظر إلى هذا ۔
যে বক্তি কোন বেহেশতী মানুষকে দেখতে চায় সে যেন এ ব্যক্তি (মালিক ইবন সিনান) কে দেখে নেয়। নবী করীম (ﷺ) থেকে যা কিছু নির্গত হয় তা খুবই সুগন্ধময়।
◼ কাজী ইয়াদ্ব ও ‘আল্লামা যারক্বানী (রহ.) বলেন,১০০
যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা করার ইচ্ছা করতেন তখন মাটি বিদীর্ণ হয়ে যেতাে এবং তাঁর পায়খানা ও পেশাব মােবারক গিলে ফেলতাে। ওখান থেকে প্রকৃষ্ট ও পবিত্র সুবাস ছড়াতাে।
◼ ইমাম বুয়ুসরী (রহ.) বলেন,১০১
جائت لدعوته الاشجار ساجدة + تمشي اليه على ساق بلا قدم
যখন আপনি বৃক্ষরাজিকে আহবান করেন তখন সেগুলাে নিজেদের শাখা-পল্লব ঝুকিয়ে সিজদাকারীর মত চরণবিহীন কান্ডভরে আপনার ডাকে হাজির হয়েছে।
তিনি (ﷺ) দু’জাহানের বাদশাহ হয়েও দরিদ্রের মত জীবন যাপন করেছেন। তিনি আমাদের মত বাহ্যিক পানাহারের মুখাপেক্ষী ছিলেন না। তাঁর পানাহার ছিল উম্মতের জন্য শিক্ষার নিমিত্তে। তাঁর পরিত্যক্ত সবকিছু পূত-পবিত্র ও বরকতময়।
৯৪. ‘আল্লামা যারক্বানী : প্রাগুক্ত, খ. ৪, পৃ. ৩১৯।
৯৫. ইমাম বুখারী : আল-জামি', কিতাবুস সাওম।
৯৬. আবু নুআইম ইস্পাহানী : দালাইলুন নবুয়্যত, পৃ. ৩৮০।
৯৭. জালালুদ্দীন সুয়ূত্নী : প্রাগুক্ত, খ, ১, পৃ. ৭১।
৯৮. জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী : প্রাগুক্ত, খ, ১, পৃ. ৬৮।
৯৯. “আল্লামা যারক্বানী : প্রাগুক্ত, খ. ৪, পৃ. ২৩০।
১০০. ‘আল্লামা যারক্বানী : প্রাগুক্ত, খ. ৪, পৃ. ২২৭।
১০১. কাসিদায়ে বােরদা।
_________________
কিতাবঃ হৃদয়ের আয়নায় নবী করীম (ﷺ)
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ আবদুল হালিম
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন