❏ মাসয়ালা: (১৬৩)
মুসাফিরের কসরের হুকুম কখন বাতিল ও রহিত বলে গন্য হবে?
উত্তরে বলা যায় মুসাফির যখন ঘরে ফিরে আসবে কিংবা কোন জায়গায় পনর (১৫) দিন অথবা এর চেয়ে বেশী দিন অবস্থানের ইচ্ছা করে তবে এক্ষেত্রে সে মুকীম হিসাবে পরিগণিত হবে এবং কসর বাতিল ও রহিত হয়ে যাবে।
➥ [ফিকহে ইসলামী ১৬৩ পৃষ্ঠা]
❏ মাসয়ালা: (১৬৪)
কসর নামাজের ক্বাজা কখন ও কিভাবে হবে?
প্রকাশ থাকে যে যদি মুসাফির অবস্থায় কোন নামাজ ক্বাজা হয়ে গেলে এ অবস্থায় ঘরে পৌঁছার পর তা আদায় করবে। তখন কসরই পড়তে হবে। অনুরূপ ঘরে থাকা অবস্থায় কোন নামাজ ক্বাজা হয়ে থাকলে আর যদি উক্ত ক্বাজা নামাজ সফর অবস্থায় আদায় করার সুযোগ সুবিধা হয়, তবে এ ক্ষেত্রে পুরো নামাজ আদায় করতে হবে।
❏ মাসয়ালা: (১৬৫)
যেই মুসাফির রাত্রে রোজা রাখার নিয়ত করেছে এবং ফজর হওয়ার পর সফর আরম্ভ করল, এক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ করা হারাম। যদি ভঙ্গ করেই ফেলে তবে ক্বাজা দেওয়া ওয়াজিব, কাফ্ফারা দিতে হবে না। এটি হানাফীগণের মত।
❏ মাসয়ালা: (১৬৬)
মুসাফিরের নামায:- যে সকল সময়ে চার রাকাআত ফরয নামায রয়েছে যেমন, যোহর, ইশা, আছর সেখানে দুরাকা‘আত পড়তে হয়। সুন্নাত পড়া জরুরী নয়। সময় পেলে পড়বে না পেলে পড়বে না। কিন্তু বিতর, ফজরের সুন্নাতের গুরুত্ব হাদিসে এসেছে। তাই তা পড়া উত্তম। শরীয়তে সে নামায কসর বলা হয়। কসরের নামাযের বিধান ৪ হিজরিতে এসেছে।
❏ মাসয়ালা: (১৬৭)
সফরে মাগরিব ও ফজরের নামায পুরো পড়তে হয় তেমনি সুন্নাত ও নফলে কোন কসর নেই।
❏ মাসয়ালা: (১৬৮)
যদি কোনো মুসাফির মুকীমের পেছনে নামায পড়ে তখন তাকে পুরো নামায পড়তে হয় ইমামের অনুসরনের কারণে।
❏ মাসয়ালা: (১৬৯)
যদি ইমাম মুসাফির হয় এবং মুক্তাদী মুকীম হয় তখন ইমামকে সালাম ফিরানোর পর কিংবা নামায আরম্ভের পূর্বে এই কথা বলে দিতে হবে যে, আমি মুসাফির তাই তোমরা নামায পূর্ণ কর।
➥ [নুরুল ইযাহ, হেদায়া, শামী;৮২১]
❏ মাসয়ালা: (১৭০)
যদি কেউ নিজ দেশ ত্যাগ করেছে এবং অন্য স্থানে নিজের ঘর বানিয়ে ফেলল এবং সেখানে স্বপরিবারে বসবাস করে তখন তাকে সে এলাকার বাসিন্দা বলা হবে যদি সে নিজ পুরাতন দেশে যায় তখন সে মুসাফির হবে।
➥ [শরহে বেকায়া, ২৩৭]
❏ মাসয়ালা: (১৭১)
শাদী হওয়ার পর যখন মহিলা শাশুর বাড়িতে থাকে তখন তা তার দেশ হিসাবে গণ্য হবে।
❏ মাসয়ালা: (১৭২)
যদি কারো নামায সফরে কাযা হল, সে যদি ঘরে তা কাযা করে তখন তাকে কসর করতে হবে পুরো পড়তে হবে না, তেমনি কারো নামায ঘরে কাযা হল যদি সে তা সফরে কাযা করে তখন তাকে পুরো পড়তে হবে।
➥ [মাজমাউল আনহার:১৬৩]
❏ মাসয়ালা: (১৭৩)
যে কর্মচারী সবসময় দূরে থাকে সে কোন স্থানে পনের দিন স্থির ভাবে থাকে না তখন তার জন্য কসর করার অনুমতি রয়েছে।
➥ [শামী, ৮২১]
❏ মাসয়ালা: (১৭৪)
যদি কেউ রাস্তা বা কোন মনযিলে তিন চারদিন অবস্থান করে কিন্তু সে তিন চারদিন পরে যাচ্ছে না আবার তিন চার দিন রয়ে গেল এভাবে যদি সে এক নাগাড়ে পনর দিন থাকার দিন নিয়ত না করে তখন সে যতদিন থাকে ততদিন সে মুসাফির হিসাবে গণ্য হবে।
❏ মাসয়ালা: (১৭৫)
কোন এক স্থানে পনর দিন বা তার চেয়ে বেশী দিন থাকার নিয়ত করে তখন সে মুকীম হয়ে যাবে যদি পনর দিনের কম নিয়ত করে তখন কসর করবে।
❏ মাসয়ালা: (১৭৬)
যদি ইমাম মুসাফির হয় এবং মুক্তাদি কিছু মুকীম ও কিছু মুসাফির তখন মুকীম নিজের নামায পূর্ণ করবে এবং মুসাফির ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে।
❏ মাসয়ালা: (১৭৭)
মুসাফির নিজ বাড়িতে ফিরলে নামায পুরো পড়বে।
❏ মাসয়ালা: (১৭৮)
শরীয়তে মুসাফির বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে যে ব্যক্তি নিজ ঘর থেকে এমন স্থানে যাওয়ার ইচ্ছা করে যার দূরত্ব ৪৮ মাইল। যদি তার চেয়ে কম স্থানে সফর করে তখন সে মুসাফির না।
➥ [ফতওয়ায়ে শামী]
❏ মাসয়ালা: (১৭৯)
যদি কেউ ৪৮ মাইলের সফরের ইচ্ছা করার পর নিজ এলাকা থেকে বের হল সে মুসাফির হয়ে যাবে। যদি তার ষ্টেশন তার শহরের ভেতরে হয় তখন তার বিধান তার শহরের আর যদি তা তার শহরের বাইরে হয় তখন সে ষ্টেশন থেকে মুসাফির হবে।
➥ [ফতওয়ায়ে শামী:২১৯]
❏ মাসয়ালা: (১৮০)
যদি কোন ব্যক্তি বিমানে, রেলে, মোটরে, পানির জাহায দিয়ে সফর করে তখন তারও এই বিধান। তাকে ৪৮ মাইলের চেয়ে বেশী যেতে হবে তখন সে মুসাফির হবে। যদিও সে কয়েক ঘন্টায় পৌঁছে যায়। যদি ততদুর নয় তখন সে মুসাফির হবে না।
➥ [ফতওয়ায়ে আলমগিরী, খ,১ পৃ:৮৯]
❏ মাসয়ালা: (১৮১)
যদি কোন মুসাফির ভুলে চার রাকাত নামায পড়ে যদি সে দ্বিতীয় রাকাতে বসে গেল তখন আবার দ্বিতীয়বার নামায পড়ার দরকার নেই। সে সিজদা সাহু করে নামায শেষ করবে।
❏ মাসয়ালা: (১৮২)
যদি কেউ সওয়ারী থেকে নেমে নামায পড়ার সুযোগ পায় তখন সে নেমে নামায পড়বে, যদি সে নেমে নামায পড়ার সুযোগ না পায় বা সওয়ারী দাঁড়ায় না যদি দাঁড়ায় তখন সামান্য সময় বা আসবাব চুরি হওয়ার আশংখা রয়েছে বা গাড়ি চলে যাওয়ার আশংখা রয়েছে তখন গাড়িতেই নামায পড়া চাই।
❏ মাসয়ালা: (১৮৩)
যদি কষ্ট ব্যতীত গাড়িতে কোন জায়গা পাওয়া যায় তখন সেখানে দাঁড়িয়ে নামায পড়ে নেবে তা উত্তম যদি দাঁড়িয়ে নামায পড়ার সুযোগ সেখানে না হয় তখন বসে বসে নামায পড়বে।
➥ [নুরুল ইযাহ]
যদি বসে পড়লে সিজদার স্থান পাওয়া না যায় তখন রুকু সিজদা ইশারা করে পড়বে। যদি দাঁড়িয়ে নামায পড়লে পড়ে যাওয়ার আশংখা রয়েছে তখন বসে বসে নামায পড়বে। আর যদি ধারণা হয় যে গাড়ী কোন স্থানে দাঁড়াবে যেখানে কাযাবিহীন স্থির ভাবে নামায পড়া যাবে তখন অপেক্ষা করা মুস্তাহাব।
➥ [ইসলামী ফিকাহ]
❏ মাসয়ালা: (১৮৪)
মুসাফিরের কসর কখন থেকে বাতিল হিসাবে গণনা হয়? মুসাফির যখন ঘরে ফিরবে বা কোন স্থানে পনের দিন বা তার চেয়ে বেশী থাকার ইচ্ছা করবে তখন সে মুকীম হিসাবে গণ্য হবে এবং কসর বাতিল হয়ে যাবে।
➥ [ইসলামী ফিকাহ, ১৬২]
_________________
কিতাবঃ মুনীয়াতুল মুছ্লেমীন
[মাসয়ালা-মাসায়েল] [ প্রথম খন্ড ]
রচনায়ঃ মুহাম্মদ আজিজুল হক আল্-কাদেরী
সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন