মৃতের কাফনের বর্ণনা


❏ মাসয়ালা: (১২৮)


পুরুষ মৃতের কাফনের জন্য তিন কাপড়। তন্মধ্যে দু’টি চাদর যা হচ্ছে-


(১) ইজার


(২) লেফাফা, আর


(৩) কামিজ, যাকে কাফনি বলা হয়। এগুলো হচ্ছে সুন্নাত।



আর মহিলা মৃতের ক্ষেত্রে আরো অতিরিক্ত দু’টি কাপড় রয়েছে; 


(১) ওড়না


(২) সিনাবন্দ। এই পাঁচ কাপড় মহিলার জন্য, এর অতিরিক্ত নয়।


শিশুদের ক্ষেত্রে কাফনের জন্য একটি কাপড়ই যথেষ্ট।


পুরুষের কাপন পরিধানের নিয়ম: প্রথমে কাপড়ের তিনটি তাগা যা দ্বারা কাপন বাধা হয়। প্রথমটি পায়ের নিকট, দ্বিতীয়টি কোমর বরাবর। আর তৃতীয়টি মাথার দিকে রাখবে। অত:পর এর উপরে একটি চাদর বিছিয়ে দেবে। যেটি বড় চাদর যা মৃতের মাথা এবং পায়ের বাইরে থাকবে যাতে তাগা দ্বারা বাধা যায়। আর এই চাদরটি তিন গজ কিংবা পৌনে তিন গজ লম্বা হতে হবে। যার নাম লেফাফা। এর উপরে দ্বিতীয় চাদর ইজার বিছিয়ে দেবে। এর উপরে তৃতীয় কাপড় যা কামিজ কিংবা কাপনি বা কোর্তা এটি মধ্যভাগে অর্ধেক বিছিয়ে দিবে আর বাকী অর্ধেক মাথার দিকে রেখে দিবে, অত:পর মৃতকে কাপনের উপর রেখে মাথা ও দাঁড়িতে আতর লাগাবে, নাখ, এবং উভয় হাতের তালু উভয় কনু এবং পায়ের তালুতে কাফুর লাগানোর পর কামিজের বাকী অংশ মাথার দিক হতে গলায় এনে নিচের দিকে রেখে দিবে।


উত্তম হচ্ছে উপর থেকে পরিধান করা। অত:পর উভয় চাদর এমন ভাবে বিছাবে বাম অংশ কাপড়ের নিচে আর ডান অংশ কাপড়ের উপরে রাখবে অত:পর তাগা তিনটি, একটি পায়ের বাইরে, দ্বিতীয়টি কোমরে আর তৃতীয়টি মাথার বাইরে বাধবে।



মহিলার কাফনের ক্ষেত্রে লেফাফা ও ইজার চাদর বিছায়ে এর উপর সিনা বন্দ বিছাবে অত:পর জামা বা কামিজ যা মাঝখানে কাটা থাকবে এরপর ওড়না দ্বারা মাথা ঢেকে দিবে। তবে বাঁধার তাগা তিনটি প্রথমে বিছাতে হবে। একটি মাথার বাইরে, একটি পায়ের বাইরে আরেকটি কোমর বরাবর। মৃতকে পাঁচটি কাফনের উপর রেখে অর্থাৎ পাঁচ কাপড়ের উপর শোয়ায়ে কাফনের উপর কাফুর দিবে অত:পর মাথার চুল অর্ধেক অর্ধেক উভয় দিকে ওড়নার উপর ভাগ করে সিনায় রাখবে এরপর সিনাবন্দ অত:পর চাদর গুলো একটা একটা চাদর আবৃত করে দিয়ে সর্বশেষ তাগা তিনটি বেঁধে দিবে।



বি:দ্র:


লেফাফা: যে চাদরটি বড়। যা মৃতের মাথা ও পায়ের বাইরে লম্বা থাকে যাতে করে তাগা দিয়ে বাঁধা যায়। এটি তিন গজ কিংবা পৌনে তিনগজ লম্বা হবে।


ইজার: যাকে তাহবন্দ বলা হয়। এটি মাথা হতে পা পর্যন্ত লম্বা। যা পৌনে তিন গজ লম্বা।


কামিজ: আড়াই গজ। যা কাঁধ হতে হাঁটু পর্যন্ত হবে।


উলে­খ্য যে, কামিজ, কাফনি ও দেরা এই তিনটি একই কাপড়ের নাম। যাকে কামিজ বলা হয়।



মহিলার ক্ষেত্রে দু’টি কাপড় অতিরিক্ত।


(১) খেরকা বা সিনাবন্দ


(২) খেমার বা ওড়না।


সিনাবন্দ তিন হাত অর্থাৎ পৌনে দু’ গজ লম্বা হবে। আর ওড়না দু’হাত অর্থাৎ দেড় গজ লম্বা, দু’ বিঘত তথা এক হাত চওড়া। উলে­খ্য যে এ সমস্ত কাপড় আড়াই হাত বরের হবে। কেননা এ সমস্ত কাপড়ে মৃতকে শোয়ায়ে এর দ্বারা আবৃত করা হয়।



❏ মাসয়ালা: (১২৯)


➠ইমাম শাফেয়ীর মতে সম্মানিত পুরুষ মৃতের জন্য পাগড়ি বাঁধা যাবে। যা লম্বা দেড় গজই যথেষ্ট।


তাছাড়া একটি কাপড়ের ছোট টুকরা ইমামের মুসল্লার জন্য। আর একটি বড় চাদর মৃতের খাটিয়ার উপর ঢেকে দেয়ার জন্য। যা তিন গজ হবে। আরেকটি তাহবন্দ অতিরিক্ত যা মৃতকে গোসল দেয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য। দু’টি থলে হাতে পেছানোর জন্য, আর সামান্য কাপড় মৃতের শরীর মুছার জন্য। সাধারণত: ষোল গজ কাপড় দ্বারা এ সমস্ত কাজ সমাপ্ত হয়ে যাবে।



মৃতকে কবরে রাখার বর্ণনা



❏ মাসয়ালা: (১৩০)


মৃতকে কবরে রাখার পর ডান পাশের্ব মাটির ঢিলা দ্বারা ঠেস লাগিয়ে কেবলামূখী করে দিবে এবং কাফনের বাঁধন খুলে দিতে হবে।


আর যদি মৃত মহিলা হয় সেক্ষেত্রে কবর মাথার দিক হতে বন্ধ করা আরম্ভ করবে। আর যদি পুরুষ হয় তবে কবর পায়ের দিক হতে বন্ধ করবে। (তাজহির ও তাকফিন)



❏ মাসয়ালা: (১৩১)


কবরে মাটি দেওয়া মাথার দিক হতে আরম্ভ করবে। প্রত্যেক ব্যক্তি তিন তিনবার উভয় হাতে মাটি নিয়ে কবরে ঢালবে।


প্রথম বার مِنْهَا خَلَقْنَكُمْ


দ্বিতীয় বার وَفِيْهَا نُعِيْدُكُمْ


আর তৃতীয় বার وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً اُخْرٰى পাঠ করবে। মাটি ঢালার পর কবরে পানি ছিটিয়ে দেওয়া এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মৃতের জন্য দোয়া, মাগফিরাত করা কিংবা কুরআন মজিদ পাঠ করে ছাওয়াব পৌঁছানো মুস্তাহাব।

_________________

কিতাবঃ মুনীয়াতুল মুছ্লেমীন

[মাসয়ালা-মাসায়েল] [ প্রথম খন্ড ]

রচনায়ঃ মুহাম্মদ আজিজুল হক আল্-কাদেরী

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন