❏ মাসয়ালা: (১২৫)
লাউডস্পীকার দ্বারা নামাজ আদায় করা জায়েয হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্ত আরবদেশ সমূহের আলেম উলামাগণ ঐকমত্য পোষণ করেছে, তবে হিন্দুস্থান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কোন কোন আলেম এটি নাজায়েয বলেছেন। কেবলমাত্র খোতবা ও ওয়াজ নছিহত ইত্যাদির ক্ষেত্রে জায়েয বলেছে। তাদের মতে লাউডস্পীকার দ্বারা নামাজ আদায়ে خشوع وخضوع (এক মনস্ক ও ধ্যান ধারণা) এর মধ্যে পার্থক্য হয়ে যায়। অর্থাৎ মুসল্লীরা অন্য মনস্কে চলে যায়। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের একদল লাউড স্পীকার দ্বারা নামাজ আদায় করা بدعت سيئه (নিকৃষ্ট বেদাত) বলে মতপোষণ করেছে। আবার অন্য আর একদল জায়েযের পক্ষে অবস্থান করেছে। বাস্তবিক পক্ষে এতে মত পার্থক্যের কারণ হচ্ছে এই- স্পীকারের আওয়াজ ও শব্দ কি بازگشت (প্রতিধ্বনি শব্দ) না নয়? গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে-এটি মুল আওয়াজ ও কন্ঠ, কাজেই এর দ্বারা নামাজ عــدم جواز (জায়েয না হওয়া) এর কথা গ্রহণযোগ্য নয়।
নির্দিষ্ট ও স্থায়ীভাবে যদি এ ধরণের লাউডস্পীকার হয় যা মিশিনের ন্যায় দেয়াল কিংবা অন্য কোন জায়গার উপর স্থাপন করা হয়ে থাকে, আর যদি স্পীকার বিকল কিংবা নষ্ট হওয়ার কারণ হয় এবং এশা ও ফজরের নামাজ আদায় করার সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটও চলে যায় তাহলে কি জটিলতা সৃষ্টি হবে না? অতএব যেখানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাটারী ইত্যাদির মাধ্যমে লাউডস্পীকার চালু রাখার ব্যবস্থা থাকে তবে তাতে অসুবিধার কিছু নাই। তাও আবার বড় জমায়াতের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট, ছোট-খাট জামাতের জন্য আবশ্যক নয়। কিছু সংখ্যক গোঁড়ামী লোক নামাজ, খুতবা ও ওয়াজ-নসিহত সমস্ত কিছুই মাইকযোগে করাকে নাজায়েয ও হারাম বলে থাকে। লাউডস্পীকার দ্বারা এই সমস্ত লোক আল্লাহর নেয়ামত ও কুদরতের বহিঃপ্রকাশ এবং অবস্থার ও যুগের বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণরূপে বেখবর তাদের সাথে কোন কথা নাই। আবার কতেক সতর্কতাবাদীরা خشوع وخضوع (ধ্যান ও মনস্ক) এর মধ্যে পার্থক্য ও অন্য মনস্ক হওয়ার কারণে শুধুমাত্র নামাজের ক্ষেত্রে মাইক ব্যবহার করা অপছন্দ করেন।
_________________
কিতাবঃ মুনীয়াতুল মুছ্লেমীন
[মাসয়ালা-মাসায়েল] [ প্রথম খন্ড ]
রচনায়ঃ মুহাম্মদ আজিজুল হক আল্-কাদেরী
সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন