শরীয়তের অনুসরণে সাধারণ লোকের করণীয়


সুতরাং এ পরম্পরা নির্ধারিত হলো যে, এ যুগের সাধারণ লোক আলিমে দ্বীনের শরণাপন্ন হবেন, আর আলিমগণ দ্বারস্থ হবেন বিজ্ঞ-আলিমগণের গ্রন্থাবলীর উপর আর বিত্ত-গ্রন্থপ্রণেতাগণ মাশায়িখে কিরামগণের ফতওয়ার উপর নির্ভর করবেন, মাশায়িখে কিরাম দ্বারস্থ হবেন হিদায়তের উপর প্রতিষ্ঠিত মুজতাহিদ ইমামগণের ওপর আর মুজতাহিদগণ নির্ভর করবেন কুরআন ও হাদীসের উপর । সুতরাং যে ব্যক্তি এ পরম্পরার যে কোন পর্যায় ভঙ্গ করলো সে অন্ধ । যে ব্যক্তি তার উর্ধ্বতন কোন হাদী (পথপ্রদর্শক) এর অনুসরণ ছেড়ে দিলো অতিসত্ত্বর সে কোন গভীর কুপে পতিত হবে ।

আরিফ বিল্লাহ সায়্যিদ ইমাম আবদুল ওহাব শা’রানী রাহমাতুল্লাহি তা'আলা আলায়হি মিযানু শরীআতিল কুরবা গ্রন্থে বলেন,


لَو قَدَرَ أَنَّ أَهلَ دَورِ تَعدُوا مِن فَوقِهِم إِلَي الدَّورِ الَّذِي قَبلَهُ لاَ انقَطَعَت وَصلَتُهُم بِالشَّرعِ وَلِم یَهتَدُوا لِإِیضَاحِ مُشکِلٍ وَّلاَ تَفصِیلِ مُجَمَلٍ وَّتأَمُّلٍ. یَا أَخِيفرض! لَو لاَ أَنَّ رَسُولَ اللّٰهِ ﷺ فَصَّلَ بِشَرِیعَتِهِ مَا اجمَلَ فِي القُرآنِ لَبَقِيَ عَلَي اجمَالِهِ کَمَا أَنَّ الأٸِمَّةَ المُجتَهِدِینَ لَو لَم یُفَصَّلُوا مَا اجمَلَ فِي السُّنَّةِ ابقَیَةِ السُّنَّةُ عَلَي اجمَالَهَا وَهَکَذَا إلَي عَصرِنَا هَذَا. 


‘মনে করুন, যদি কোন যুগের মানুষ তার পূর্ববর্তী যুগের মানুষ (আলিম ও মুজতাহিদগণ)-কে অতিক্রম করে যায়, তবে শরীয়ত প্রবর্তক হুযুর আলায়হিস সালাতু ওয়াস সালামের সাথে তাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন তারা সংক্ষিপ্তকে ব্যাখ্যা এবং অস্পষ্টকে স্পষ্ট করার পথ পাবে না। হে ভাই! একটু চিন্তা করুন! যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা না করতেন তবে কুরআন আপন অস্পষ্টতায় থেকে যেতো। তেমনিভাবে মুজতাহিদ-ইমামগণ হুযূর (ﷺ)র অস্পষ্ট সুন্নাতের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ না করতেন, তবে সুন্নাত স্বীয় অস্পষ্টতার উপর থেকে যেতো। আর এ ধারাক্রম আমাদের এ যুগ পর্যন্ত চলে আসছে।

ওই গ্রন্থে আরও উল্লেখ আছে যে,


کَمَا أَنَّ الشَّارعَ بَیَّنَ لَنَا بِسُنَّتِهِ مَا اجمَلَ فِي القُرٱنِ وَکَذَالِكَ الأَٸِمَّةُ المُجتَهِدِینَ بَیَّنُوا لَنَا مَا اجمَلَ فِي احَادِيثِ الشَّرِیعَةِ وَلَولاَ بَیَانُهُم لَنَا ذَالِكَ لَبَقِیَةِ الشَّرِیعَةُ عَلَي اجمَالِهَا وَهَکَذَ القَولُ فِي أَهلِ کُلِّ دَورٍ بِالنِّسبَةِ لِلدَّورِ الذَّینَ قَبلَهُم إِلَي یَومَ القِیَامَةِ فَإَنَّ الإِجمَالَ لَم یَزَل سَارِیَّا فِي کَلاَمِ عُلَمَاءِ الأُمَّةِ إِلَي یَومِ القِیَمَةِ وَلَولاَ ذَالِكَ مَا شَرِحَتِ الکُتُبُ وُلاَ عَمَلَ عَلَي الشُّرُوحِ حَوَاشُ کَمَا مَرَّ. 


“যেমনি শরীয়ত প্রবর্তক হুযূর আলায়হিস সালাতু ওয়াসসালাম স্বীয় সুন্নাত দ্বারা কুরআন মজীদের সংক্ষিপ্ত ভাষ্যের ব্যাখ্যা করেছেন, তেমনি মুজতাহিদ ইমামগণ আমাদের জন্য শরীয়তের বিধান সংবলিত হাদীসমূহের সংক্ষিপ্ত ভাষ্যের ব্যাখ্যা করেছেন। যদি তাঁদের ব্যাখ্যা না হতো তবে শরীয়ত স্বীয় অস্পষ্টতার উপর থেকে যেতো। আর এ নিয়ম প্রত্যেক যুগে তার পূর্বকার যুগের লোকের জন্য প্রযোজ্য। এ ধারা কিয়ামত পর্যন্ত চলবে। এ কারণে প্রত্যেক যুগের এই উম্মতের আলিমগণের বাণীতে কোন না কোন অস্পষ্টতা

১. শারানী, আল-মিযান আল-কুবরা, অনুচ্ছেদ : ومما بذالك علي صحة ارتباط جمیع اقوال علماء الشریعة আল-বাৰী, মিসর থেকেই যায়। যদি এমন পরিস্থিতি না হতো তবে কিতাবসমূহের ব্যাখ্যা আর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর টীকা-টিপ্পনী রচনা করা হতো না। এ আলোচনা ইতোপূর্বেও করা হয়েছে।”

গায়র-ই মুকাল্লিদগণ (ইমাম চতুষ্টয়ের যে কোন একজনের অনুসরণ ত্যাগকারী) এ পরম্পরাকে ত্যাগ করেই পথভ্রষ্ট হয়েছে । তাদের এটা জানা নেই যে,


 ہمہ شیر ان جہاں بستہ ایں سلسلہ اند     روہہ از حیلہ چساں بگسلد ایں سلسلہ را


‘দুনিয়ার সমস্ত নেকড়ে এ শিকলে বন্দী, শৃগাল স্বীয় শঠতা দ্বারা এ শিকলকে নড়বড়ে করবে কেমনে।

_____________

বায়াত ও খিলাফতের বিধান

মূল :- ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।

অনুবাদ: মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন